হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার ইরাকি প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে)-এর প্রধান বাফেল তালাবানির সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান ইরান ও ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রেস টিভির বরাতে— পেজেশকিয়ান বলেন, “দুই পক্ষের সম্পর্ক প্রতিবেশিত্ব, ঐতিহাসিক, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে এই সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।”
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণের মধ্যে গভীর ও প্রাচীন সম্পর্ক রয়েছে। সহযোগিতা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ সুগম করতে এসব অভিন্নতার ওপর নির্ভর করতে হবে।
অঞ্চলে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টিতে বহিরাগতদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং তাদের সম্পদ কাজে লাগাতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাই সহযোগিতা ও সংলাপ বাড়ানোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত করতে হবে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “কোনো কোনো গোষ্ঠীর যদি বৈধ দাবি থাকে, তাহলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধার কাঠামোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করা এবং সমাধান করতে আমরা প্রস্তুত।”
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, “আমরা আশা করি, সব পক্ষই প্রতিবেশিত্বের নীতিগুলো মেনে চলবে এবং অতিরিক্ত দাবি ও অনুচিত আচরণ থেকে বিরত থাকবে।”
মুসলিমদের অভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা মুসলিমদের ভাই হিসেবে বিবেচনা করি এবং বিশ্বাস করি, সহযোগিতা, সংলাপ, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করি, তাহলে এমন একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে পারব, যা শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি, সংহতি ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ হবে।”
ইরাকি কুর্দিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব
পেজেশকিয়ান ইরান ও ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সামর্থ্য কাজে লাগানোর বিষয়ে ইরান সরকারের নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার নির্দেশনায় এই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব তালাবানির
বৈঠকে বাফেল তালাবানি বলেন, “ইরান ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ও যৌথ সহযোগিতাকে আমরা মূল্য দিই।”
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তালাবানি বলেন, “ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের সীমান্তে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি নিশ্চিত করতে আমাদের সব প্রচেষ্টা পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি জানান, ইরান ও ইরাকের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় বিপ্লববিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সরিয়ে দেওয়া এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে কাজ চলছে।
তালাবানি আরও বলেন, বিদ্যমান চাহিদাগুলো সহযোগিতার মাধ্যমে পূরণ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করার লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক দল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে এসেছে।
আপনার কমেন্ট